Reptiles Farm Ltd.

Reptiles Farm Ltd.
crocodilefarmer@gmail.com

Tuesday, 1 January 2019

‘কুমিরভাই’ হয়ে ওঠার গল্প'

‘কুমিরভাই’ হয়ে ওঠার গল্প

মানসুরা হোসাইন, ঢাকা
 
আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৬
স্ত্রীর সঙ্গে ‘কুমির ভাই’ মুশতাক আহমেদ। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়াস্ত্রীর সঙ্গে ‘কুমির ভাই’ মুশতাক আহমেদ। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়াকুমির জীবনের ৮০ শতাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। মুখ হাঁ করে চোখ খোলা রেখেও ঘুমাতে পারে। মা কুমির বাসা বানায় পেছনের পা দিয়ে। জন্মের সময় কুমিরছানার ওজন ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম হলেও ৩০ বছর বয়সে ওই কুমিরের ওজন হয় এক টন। দৈর্ঘ্যে ৫ থেকে ৬ মিটার লম্বা হয়। ফেসবুকে শুধু কুমিরের তথ্যই নয়, কুমিরের ছবি দিয়েই চলে ফেসবুকের বন্ধুদের গুড মর্নিং জানানো। শুভ সন্ধ্যা বা দৈনন্দিন কোনো স্ট্যাটাসেও নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ছবির চেয়ে কুমিরের ক্যারিকেচার করা ছবিরই প্রাধান্য।
এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে মানুষকে দোষ দেওয়ারও উপায় নেই। যে ব্যক্তির জীবন কুমিরময়, তাঁকে তো ‘কুমিরভাই’ ডাকাই যায়। এই কুমিরভাই হলেন মুশতাক আহমেদ। তিনি দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমির চাষের উদ্যোক্তা। সম্প্রতি ‘কুমির চাষির ডায়েরি’ নামের একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।
মুশতাক আহমেদের জন্ম চুয়াডাঙ্গায়। ১৯৮০ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন চা–বাগানে। বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বিভিন্ন খামার ও কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে। দেশে ফিরে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন। তবে ১৯৯৬ সালে সিদ্ধান্ত নেন উদ্যোক্তা হবেন। তারপরও ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিফোন সেবা কোম্পানিতেও চাকরি করেন। ২০০১ সালে বোট ম্যানেজার হিসেবে একটি ট্যুর অপারেটিং কোম্পানিতে কাজের সুবাদে কাছ থেকে দেখেন সুন্দরবনকে। তবে তখনো মাথায় আছে ‘কিছু’ করবেন। অবশেষে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রথম কুমিরখামার শুরু করলেন। ২০১০ সালের ৪ জুন বাংলাদেশ থেকে তাঁর হাত ধরেই প্রথমবারের মতো কুমির রপ্তানি হয়। এর পাশাপাশি ভ্রমণ ও ছবি তোলার শখ তো আছেই।
প্রথম আলো কার্যালয়ে বসেই কথা হয় এই কুমিরচাষির সঙ্গে। হাসতে হাসতেই বললেন, এখন অবশ্য কেউ আর কুমিরচাষি বলে না, বলে কুমিরভাই। কুমিরকে ভালোবাসেন, তাই এ নিয়ে তেমন একটা আপত্তিও করতে পারেন না।
ভালুকার ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ হলো দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমিরখামার। কাজ শুরুর পর থেকেই এ নিয়ে গবেষণা বা অন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই সবকিছু টুকে রাখতেন মুশতাক। নিজের অভিজ্ঞতা এবং টুকে রাখা তথ্যের ভিত্তিতেই প্রথম বই প্রকাশ। মালয়েশিয়াতে ৬০–এর দশকে শুরু হওয়া কুমিরের খামারে প্রজনন হয় ১৯৮১ সালে। ২০০৪ সালে সেখান থেকে কুমির এনেই ২০০৬ সালে প্রজনন শুরু করে এবং বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া কুমির প্রজনন শুরু করে ২০১৬ সালে।
বাংলাদেশে মুশতাক আহমেদের আগেও কয়েকজন কুমির চাষের উদ্যোগ নেন, তবে সফল হননি। মুশতাক আহমেদের প্রকাশক স্বরে-অ–এর সিইও আবু বকর সিদ্দিকও বই প্রকাশে উৎসাহী হন মুশতাক আহমেদের ফেসবুকের পোস্ট দেখেই। ১০৮ পৃষ্ঠার বইটিতে কুমির চাষের ভাবনা থেকে শুরু করে প্রথম রপ্তানি পর্যন্ত বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির কুমির, বাণিজ্যিক কুমির চাষসহ বিভিন্ন তথ্য এবং চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। বইয়ে খামার গড়ে তোলার পেছনে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বিশেষ করে সাউথ এশিয়ান এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুশতাক আহমেদ। অনুমতি পেতে দুই বছরে ৩২টি টেবিল ঘুরে আসাসহ বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
মুশতাক আহমেদ কুমিরের খামার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি যে পাগল ছিলাম না, তা প্রমাণ করতেই লেগেছে আট বছর বছর।’ দেশের প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে ৬৭টি কুমির রপ্তানির মাধ্যমে পরে মানুষ বিশ্বাস করতে বাধ্য হন যে তিনি পাগল ছিলেন না। বইয়ে মুশতাক আহমেদ বলেন, শুরুতে অনেকেই বলতেন, কুমির-টুমির কিছু না, ব্যাংকের টাকা মারার ফন্দি এটি। তারপর বলতেন, কুমির বাঁচবে না, বাঁচলেও ডিম পাড়বে না। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর শুনতে হয়েছে, এগুলো বিক্রি হবে না। জার্মানির হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে কুমির কেনার প্রস্তাব পাওয়ার পর শুনতে হয়েছে, এরা ভুয়া।
২০০২ সালে সুন্দরবনে পরিচয় হয় রিতা আলমের সঙ্গে। কুমিরের গল্প শোনানোর জন্যই মুশতাক আহমেদ রিতা আলমের বাসায় যান। আর সেখানেই পরিচয় রিতার বন্ধু মাসিহা আখতার লিপার সঙ্গে। রিতা ও লিপা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। রিতা হলেন ঘটক, আর লিপা শুধু কুমির চাষেই আগ্রহী নন, কুমিরচাষিকেই বিয়ে করেন। ২০০৫ সালে বিয়ের পর থেকে মুশতাক আহমেদ স্ত্রী লিপাকে কুমির চাষে ‘নলেজ ব্যাংক’ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। এই কুমির চাষের পেছনে সময় ব্যয় করার কারণেই লিপা নিজের চাকরিজীবনে ইস্তফা দিয়েছিলেন। বিয়ের আগেই লিপা মুক্তা চাষ, ইলিশ মাছের প্যারাসাইট নিয়ে গবেষণা করতেন। নতুন একটি পরজীবী শনাক্ত করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক জার্নালে ছাপাও হয়েছিল। প্রথম আলো কার্যালয়ে বসে মুশতাক আহমেদ কথা বলার সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্ত্রীর নাম নিলেন একাধিকবার। মুশতাক আহমেদ বইটি উৎসর্গ করেছেন বাবা-মা এবং স্ত্রী লিপাকে।
কিন্তু নিজের হাতে গড়া কুমিরখামারের সঙ্গে এ দম্পতি যুক্ত থাকতে পারেননি। ২০১৩ সালে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে দেন খামার। ৭৫টি কুমির দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করলেও হস্তান্তরের সময় কুমিরের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০। মুশতাক আহমেদ আক্ষেপ করেই বললেন, ‘বর্তমানে কুমিরভাই ডাক শোনা, কুমিরবিষয়ক একটি বইয়ের মালিক হওয়া ছাড়া আর কোনো অর্জন নেই আমার।’
নিজের মামা কুমির চাষে সহায়তার হাত বাড়িয়েছিলেন, আবার এই মামার সঙ্গে মান-অভিমানসহ বিভিন্ন কারণেই খামারের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হন মুশতাক আহমেদ। তবে ওই অধ্যায়টুকু নিয়ে কথা বলতে ততটা আগ্রহী নন মুশতাক আহমেদ। বইতেও কুমির রপ্তানির দিনটি পর্যন্ত লিখেই ইস্তফা টেনেছেন।
মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘কুমির নিয়ে পড়াশোনা বা পরিকল্পনার মাত্র ১৫ শতাংশ ভালুকায় খামারে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি পরিকল্পনা মাথায় আছে। কুমির নিয়ে খামার করার পাশাপাশি একটি বিশ্বমানের চিড়িয়াখানা করার ইচ্ছা আছে। বই প্রকাশের দিন কুমির নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়া স্ত্রীর মুখে হাসি দেখেছি, তা নতুন করে আশা জাগিয়েছে।’
কুমির ব্যবসায় কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাঁদের জন্য মুশতাক আহমেদ বলেন, এ ব্যবসায় ‘শর্টকাট’ কোনো পদ্ধতি নেই। ব্যবসা শুরুর পর কমপক্ষে ১০ বছর হাতে রাখতে হবে। অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবে কোনো উদ্যোক্তা লেগে থাকলে সফল হবেনই। এ ব্যবসায় ঝুঁকি নেই। অন্যান্য ব্যবসার মতো হরতাল-অবরোধেও তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কেননা, নয় মাস কুমিরকে সপ্তাহে এক দিন খাবার দিতে হয়। আর তিন মাস কোনো খাবারই দিতে হয় না। ডাইনোসরের যুগ থেকেই কুমিরের তেমন কোনো পরিবর্তন বা বিবর্তন হয়নি। রোগবালাই নেই বললেই চলে। ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচে কুমির। চায়না, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে কুমিরের মাংসের বিশাল চাহিদা আছে। চামড়ার চাহিদা তো আরও বেশি। তবে কুমিরের ব্যবসায় হিসাব-নিকাশে গন্ডগোল হতে পারবে না। কুমিরের চামড়ার জন্য কুমিরের বয়স তিন বছরের বেশি হলেই তা আর কাজ করবে না।
আমি কুমিরের গান গাই
আমি কুমিরের গান গাই
আমি কুমিরের গান গাই
আমার প্রাণেতে ঘুরে ফিরে শুধু কুমিরকে খুঁজে পাই |
কুমির আমার স্বপ্ন
কুমির আমার প্রাণ
এই বাংলার পথে প্রান্তরে আমি গেয়ে চলি তার গান |
শয়নে স্বপনে আমি শুধু দেখি কুমিরের মুখ
একবার দেখি শত বার দেখি
তাতেই আমার সুখ |
আমি যে এক কুমির বাউল
নিয়ে মোর একতারা
গেয়ে চলি আমি কুমিরের গান
হয়ে এক দিশেহারা |
আমি কুমিরের গান গাই.. 
lyrics by Mahfoozur Rahman ভাই 
https://www.facebook.com/kumircashi/
crocodilefarmer@gmail.com

Saturday, 1 September 2018


উচিত কথায় হইয়া বেজার,
মাননীয় সরকার!!
সবার প্রিয় কুমির ভাইকে
করিলো গ্রেফতার।
বুঝিতে পারে নাই
আমলা পুলিশ
বুঝেনি সরকার বাবা
কুমির ভাইয়ের ভক্তকুলের
হস্ত কতটা লম্বা!!
- collected 

Friday, 4 January 2013


Crocodile eggs up for sales on Bangladesh local market

Crocodile eggs 300x232 Crocodile eggs up for sales on Bangladesh local marketWith the growing global market for crocodile products, the country’s lone crocodile farm is now offering such products in the local market on a limited scale alongside its exports abroad.
The Reptiles Farm Ltd now offers crocodile eggs, teeth, and live crocodiles for the local market on a limited scale through online marketing.
The crocodile products were put in one of the online portals, celbazaar.com, on Saturday as the company put the offer, ‘The country’s only commercial crocodile farm registered with CITES is making available a small quantity of crocodile eggs. You can eat these eggs like any other eggs; you can make Moghlai Parata or even Pizza if you want.’ The farm also assured to provide recipes on request.
Most of the viewers of the online advertisement were curious about such products, especially the eggs, and many left lamenting comments for the high price.
The farm is offering crocodile eggs at Tk 1,200 a piece, crocodile tooth at Tk 50,000 a piece and baby crocodile at Tk 1,50,000.
The farm’s managing director, Mushtaque Ahmed, told New Age that he received an overwhelming response and most of them were curious about eggs as it was the cheapest item.

Many of them also inquired about crocodile teeth and few wanted to know how they would keep a crocodile as a pet, Mushtaque said.‘We actually do not market such products locally. On a test basis we had advertised to sell some unfertile-eggs as we felt there are many people curious about non-conventional items. I think most of the people are interested in keeping the eggs as souvenirs,’ he said.
‘Although crocodile eggs are edible but such an idea is still a cultural shock here. And I think few would be interested in eating an egg at Tk 1,200,’ he added.
The farm began its journey in 2004 with 75 crocodiles, ranging from 7 feet to 12 feet in length, imported from Malaysia for commercial breeding at a cost of Tk 1.25 crore.
It made its first shipment of crocodile export worth $100,000 on June 4, 2010 to Heidelberg University of Germany for research purpose.
Mushtaque said that they had set up the farm with the objective of exporting over 5,000 crocodile skins annually and creating the means for earning up to $5 million by 2015.
Various countries, including France, Germany, Italy and Spain, have shown interest in importing crocodile skins from the farm, he said, and expressed the hope that they would be able to export 500 crocodile skins annually within next two or three years.

Now, crocodiles are Bangladesh’s new export item

Sat Jun 05 2010 16:26:34 GMT+0600 (Central Asia Standard Time) by IANS ( Leave a comment )
Dhaka, June 5 (IANS) Bangladesh has a new item on its export list - crocodiles. The first consignment that has just left for Germany is worth $100,000, a media report said Saturday.
The maiden export was conducted Friday by the Reptile Farm Ltd., country’s lone crocodile farm, five years after it began farming the reptile.

The farm, located in the Hatiber village in northern Mymensingh district, now has 825 saltwater crocodiles.
Finding crocodiles should not be a problem in a country criss-crossed by rivers, said Mustaq Ahmed, managing director of the farm, adding that this consignment is of 67 frozen saltwater crocodiles.
Germany’s Heidelberg University is importing the reptiles, of sizes between 12 inches and 14 feet, for research, Ahmed said.
“If the shipment reaches in time, scope for export of crocodiles from the country will widen,” the New Age newspaper reported on its website quoting him as saying.
The country’s maiden move to export crocodiles was delayed several times due to bureaucratic tangles over issuance of permits to exporters.
He said the farm was ready to export crocodiles to Germany in December, but it could not be undertaken as the forest department did not give the green signal then.
The farm began commercial breeding of crocodiles by importing the reptiles from Malaysia.
Ahmed said they had set up the farm with the aim of exporting over 5,000 crocodile skins annually and earning up to $5 million by 2015.
France, Germany, Italy and Spain, have shown keen interest in importing crocodile skins from the farm, he said.
Bangladesh’s principal exports are readymade garments and manpower.
www.thaindian.com/newsportal/business/now-crocodiles-are-bangladeshs-new-export-item_100375489.html#ixzz1I6dUYhU7

Rain drops keep falling on my head







Wednesday, 16 May 2012

বন্ধের পথে ভালুকার কুমির রফতানি প্রতিষ্ঠান

বন্ধের পথে ভালুকার কুমির রফতানি প্রতিষ্ঠান
এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ময়মনসিংহ: মামা-ভাগ্নের দ্বন্দ্বে বন্ধের পথে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে অবস্থিত দেশের বাণিজ্যিকভাবে একমাত্র কুমির চাষ প্রকল্প রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড।

সার্ক দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাণিজ্যিক কুমির চাষের এ খামারটি গত বছর জার্মানিতে ৬৭টি কুমির রফতানি করলেও মামা-ভাগ্নের দ্বন্দ্বের কারণে নতুন করে আর কুমির রফতানি হচ্ছে না এই ফার্ম থেকে।

শুধু তাই নয়, খামারটিতে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে অসংখ্য কুমির। এতে খাবার ও তাপ নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রায় প্রতিদিনই এ ফার্মে দু-একটি করে কুমির মারা যাচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড এ খামার প্রতিষ্ঠা করে।

শুরুতেই খামারটিতে কুমিরের সংখ্যা ছিল ৭৫টি। পরে এসব কুমিরের ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটানো হয়েছে। বর্তমানে ফার্মে ছোটবড় মিলিয়ে ১ হাজার ২৫০টি কুমির রয়েছে।

রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ৫ মে এ খামার প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়।

উদ্যোক্তারা পরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সিআইটিইএস’র অনুমোদন নিয়ে মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কুমির আমদানি করে।

২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর কুমিরগুলো খামারে ছাড়া হয়। তখন আমদানি করা কুমিরগুলোর বয়স ছিল গড়ে ১০ থেকে ১৪ বছর। আর কুমিরগুলো লম্বায় ছিল ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১২ ফুট।

ফার্ম সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১০ সালে জার্মানিতে ৭০ লাখ টাকায় ৬৭টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে কুমির রফতানির দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রথমবারের মতো নাম লেখায় বাংলাদেশ।

ওই খামারে মূলত লোনা পানির কুমিরই চাষ করা হয়।

খামারসংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জার্মানিতে কুমির রফতানির পরই কোম্পানির পরিচালক মুশতাক আহম্মেদ তার মামা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মেসবাহ উল হকের কাছে তার বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান।

এতে মেসবাহ উল হক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দেখা দেয় মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব।

দু’মালিকের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও আজও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ খামারটি আজ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এ খামারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪৯ শতাংশ, মেসবাহ উল হকের ৩৬ শতাংশ এবং মুশতাক আহম্মেদের ১৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বর্তমানে খামারটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ দু’টির দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করছেন মেসবাহ উল হক। আর পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মুশতাক আহম্মেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পৃথীশ কুমার।

আন্তর্জাতিক ক্রোকোডাইল স্পেশালিস্ট গ্রুপের সদস্য খামারের পরিচালক মুশতাক আহম্মেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিজের অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে তিলে তিলে এ খামারটি গড়ে তোলার পর এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আর কুমির পালন অভিজ্ঞতাহীন খামারের চেয়ারম্যান মেসবাহ উল হকের মনগড়া সিদ্ধান্তের কারণেই খামারটি আজর ধ্বংসের পথে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বিনা কারণে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজেই ভারপ্রাপ্ত এমডি’র পদ ব্যবহার করছেন মেসবাহ উল হক।’

মুশতাক আহম্মেদ আরও বলেন, ‘৫ কোটি টাকা দিয়ে আমার মালিকানার অংশও কিনে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান চাপ দিচ্ছেন। আমার সময়ে খামারে নিয়োগ পাওয়া সব বিশেষজ্ঞ, শ্রমিকদের চাকরি থেকে বরখাস্তও করেছেন তিনি। ফলে সুষ্ঠুভাবে খামারে কুমিরের খাদ্য ও পরিচর্যার অভাব দেখা দিয়েছে।’

তিনি জানান, ‘খাদ্য হিসেবে কুমিরকে মাছ ও মাংস দিতে হয়। অপরদিকে, ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য পানিতে দিতে হয় ইলেকট্রিক তাপ। এসব ঠিকমতো না হওয়ায় প্রতিদিনই খামারের কুমির মারা যাচ্ছে। এছাড়াও চেয়ারম্যান খামারের প্রবেশপথের মূল অংশের জমি তার স্ত্রী মাহফুজা হক লুলুর নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।’

এদিকে, উভয় পরিচালকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার খামারটি পরিদর্শন করে নানা অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।

ওই সময় তিনি ওই প্রতিবেদনে স্বীকার করেন, ‘ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে সম্ভাবনাময় এ খামারটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ছে। প্রায় এক বছর পরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে খামারটিতে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ফার্মের চেয়ারম্যান মেসবাহ উল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরিচালক মুশতাক আহম্মেদ তার ভাগ্নে।’

দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘খামারটি বড় করার স্বার্থে অন্য বিনিয়োগকারী আনার প্রস্তাব করা হলে তিনি নিজেও কোনো অর্থ দিচ্ছেন না আবার অন্য বিনিয়োগকারীও নিতে দিচ্ছেন না।’

খামারে কোনো কুমির মারা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে মুশতাক আহম্মেদ আরও অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্ত নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফার্ম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন মেসবাহ উল হক। বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরো বিষয়টি বার বার জানানোর পরেও কোনো কিনারা না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।’

তিনি মনে করেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ, তাই এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি ও খরচ আরও বাড়বে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে এ ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৪ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর/সাইফুল ইসলাম, কান্ট্রি এডিটর

www.reptilesfarm.net crocodilefarmer@gmail.com

Thursday, 28 July 2011

shamol bangla, on Bangla Vision, August 2007


Shamol Bangla
Popular TV show by shamol bangla, which mainly covers agriculture and related topics made this show on Reptiles Farm Ltd. in 2007. Reptiles Farm Ltd. is the countries pioneer crocodile farm and brain child of Mushtaq Ahmed.
This TV show has captured many rare historical moments of Reptiles Farm Ltd.


www.reptilesfarm.net
crocodilefarmer@gmail.com

Friday, 1 April 2011

সরকারী জটিলতায় কুমির রপ্তানীতে বাধা

click on the link and listen to BBC ......

বাংলাদেশের একমাত্র বেসরকারী সরীসৃপ প্রজনন কেন্দ্র, রেপটাইল ফার্ম লিমিটেড, বলছে সরকারেরআমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্যে তাদের কুমির রপ্তানী বাধার মুখে পড়েছে৻

ময়মনসিংয়ের ভালুকায় এই খামার দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর কাজ করে তাদের প্রথম চালান পাঠানোর সবপ্রস্তুতি শেষ করেছে বলে বলছেন খামারের প্রধান৻

কী ধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখে তাদের পড়তে হচ্ছ, বিবিসি বাংলার মানসী বড়ুয়া জানতে চেয়েছিলেন ঐ খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদের কাছে:


www.reptilesfarm.net
crocodilefarmer@gmail.com